কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি পৌঁছে দেবে ঘরেরবাজার

বর্তমানে এই সমাজে বিজ্ঞানের গরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। বিজ্ঞানের এই ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত সহজ করে তুলেছে।

আজকে আমরা যেই নতুন  বিষয়ে কথা বলছি সেটা হলো " কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ভবিষ্যৎ ব্যাবহার  "


একটা সময় গাড়ি থাকবে, চলে ফিরে বেড়াবে, অথচ তাতে কোন মানুষ থাকবে না সেটা ভাবাটা ছিল হাস্যকর ব্যাপার।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পাল্টিয়েছে। মানুষ এখন চালক ছাড়াই গাড়িতে বেশ চলেফিরে বেড়ায়। গুগলের সেলফ ড্রাইভিং কারের সাথে পরিচয় নিশ্চয় হয়েছে আপনার?

তবে এতোদিন কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই এমন গাড়ির কথা ভেবেছে সবাই। কখনো কোন মুদি দোকানের মালামালও যে চালক ছাড়াই কোন গাড়ি মানুষের দরজায় পৌঁছে দেবে সেটা মাথায়ই আসেনি মানুষের।

এবার সেই কল্পনাকেই বাস্তব করে তুলেছে নিউরো (Nuro) ও ক্রোগার। গ্রোসারি চেইন ক্রোগারের সাথে যৌথ ভাবে এই কাজে হাত দেয় নিউরো (Nuro)।

চলুন এই প্রযুক্তির সাথে যুক্ত সাধারণ প্রশ্ন গুলির উত্তর সন্ধান করা যাক 

কীভাবে কাজ করে এই গাড়ি?

নিউরোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভ ফার্গুসন এর আগে কাজ করেছেন গুগলে, গুগলের ‘সেলফ ড্রাইভিং কার’ প্রকল্পে। যেটাকে কিনা এখন মানুষ চেনে ওয়েইমো নামে।

ফার্গুসনের মতে, এটি একটি বাইকে একজন মানুষ থাকার মতোই। ৬ ফুট উচ্চতা, ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩.৬ ফুট প্রস্থের এই গাড়িটি অনেকটা টয়োটা করোলার প্রস্থের অর্ধেক। ১,৫০০ পাউন্ডের এই গাড়িটি ব্যাটারির সাহায্যে চলে। একবার চার্জ দেওয়ার পর সারাদিন এটি কাজ করতে পারবে।

বর্তমানে প্রতি ঘন্টায় ২৫ মাইল যাওয়ার ক্ষমতা থাকলেও খুব দ্রুত আরো বেশি দূর ও সহজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এই গাড়িটিকে। এর দুটো প্রধান কম্পার্টমেন্টে মোট ছয়টি মুদি দোকানের মালভর্তি ব্যাগ রাখা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই পরিমাণ ১০ টি ব্যাগ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা আছে নির্মাতাদের।

যেহেতু মানুষ গাড়ি চালাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে গাড়িটির চারপাশ পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই নিউরোর একদম উপরে রাখা হয়েছে লিডার (LIDAR) নামক একটি স্পিনিং লেজার ইউনিট। যেটির মাধ্যমে গাড়ি থেকে কোন বস্তু বা প্রাণীর দূরত্ব বোঝা যাবে। এছাড়াও গাড়িতে আছে গাড়ির চারপাশ ৩৬০ ডিগ্রীতে দেখার জন্য ক্যামেরা এবং রাডার। নিউরোর কাছে সমস্ত জিপিএস ও ম্যাপ তো রয়েছেই, সেইসাথে আছে চারপাশের কোনকিছুর গতি বোঝার ক্ষমতা। খুব সহজভাবে বলতে গেলে, নিউরো নিজ থেকেই বুঝতে পারবে কোন রাস্তা কেমন থাকার কথা ছিল এবং কোন রাস্তা দিয়ে কখন যেতে হবে।

এই প্রযুক্তি কি নিরাপদ?

এক্ষেত্রে অবশ্য প্রশ্ন আসে নিরাপত্তার। ইতিপূর্বে, অ্যারিজোনায় উবারের একটি চালকহীন কার পেছনে নিরাপত্তার জন্য থাকা মানুষ চালক থাকা স্বত্ত্বেও দূর্ঘটনা ঘটায়।
তবে ফার্গুসন জানান যে, নিউরো এটা বোঝে যে মানুষকে আঘাত করা যাবে না। সেটা যেকোন মূল্যেই হোক। প্রয়োজনে কোন গাছকে আঘাত করবে এই গাড়ি। এছাড়াও গাড়ির সামনের অংশ সহজেই ভেঙ্গে যাবে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। কোন সংঘর্ষের সময় সর্বোচ্চ পরিমাণ শক্তি শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিউরো কাজ করবে।

ঘরের বাজার ডেলিভারি কীভবে করা হবে?

ক্রোগার ওয়েবসাইট বা নিউরো অ্যাপের মাধ্যমে কেউ খাবার চাইলে সেক্ষেত্রে গাড়িটি সরাসরি সেই ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে যাবে।
ক্রেতা এই সময়টুকু ম্যাপে গাড়ি কতদূর রয়েছে সেটা দেখতে পারবেন। গাড়ি চলে এলে ক্রেতাকে দেওয়া নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে বা গাড়িকে স্পর্শ করে গাড়ির দরজা খুলতে পারবেন ক্রেতা। ফলে, কেউ কারো পণ্য কোনভাবেই ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

তবে হ্যাঁ, আসলেই এতো ভালোভাবে পুরো ব্যাপারটি কাজ করবে কিনা সেটা জানতে হলে এই বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খুব দ্রুতই অক্টোবর এ টেস্ট ড্রাইভ শুরু হবে নিউরোর।

উবার এবং অন্যান্য কোম্পানিও বর্তমানে এই গাড়ির কথা ভাবছে।
তবে এই প্রযুক্তি কতটা সহায়ক হতে পারে 
সেটা নাহয় আর কয়েকটা দিন পরই জানা যাবে।


আর যদি এই লেখাটি আপনার কোনো বন্ধু বা আত্মীয়দের উপকারে লাগে তাহলে নিচের শেয়ার বাটন গুলোতে ক্লিক করে তাদেরকে শেয়ার করুন। 

আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন। 

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।

Comments