মনের উপর বাড়ির রঙ এর প্রভাব
মনের উপর রঙ এর প্রভাব
আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর বাড়ির রঙের প্রভাব কেমন করে পরে আসুন জেনে নিই-
পোশাকে রঙের প্রভাব আমরা সবাই লক্ষ্য করি। কোন রঙ আমাদের মনকে ফুরফুরে করে তোলে আবার কোন রঙ যে মুডটাই অফ করে দেয়। রঙ দিয়েই আমরা চিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর বস্তুগুলোকে। কখনো ভেবে দেখেছেন, সব বস্তু যদি একই রঙের হত কেমন হত তাহলে? সব বৈচিত্র্যই যেন হারিয়ে যেত, তাই না? মনের উপর রঙের এই প্রভাব শুধু প্রকৃতিতে বা পোশাকে নয়, সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর আপনার ঘর যেখানে কিনা আপনি কাটাবেন দিনের একটা দীর্ঘ সময় তার রংটা আপনাকে প্রভাবিত করবে না, তাই কি হয়?
আপনার ঘরের দেয়ালে আপনি কোন রং করছেন এটি শুধু নান্দনিকতার বিষয় নয়, এটি এমন একটি অনুসংগ যা প্রভাব ফেলে আপনার আবেগ এবং আচরণে।”
আধুনিক রঙ মনোবিজ্ঞানের গোড়াপত্তন হয় ১৯ শতকে। Johann Wolfgang von Goethe নামক এক বিজ্ঞানী ‘Theory of Colours’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এই বইটি রঙ সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে দেয়। বেশ কিছু মনোবিজ্ঞানী এই বইটির বিরোধিতা করেন , কিন্তু মানুষের মনের উপর রঙ এর প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না।
হলুদ:
হলুদ মানেই আনন্দ, সৃষ্টিশীলতা, সৃজনশীলতা। প্রকৃতির কাছাকাছি যদি হয় আপনার ঘরটি তাহলে ব্যবহার করতে পারেন এই রংটি।
বারান্দার দেয়ালেও সুন্দর মানিয়ে যাবে উজ্জ্বল হলুদ রংটি। আপনার বেডরুমের একটি দেয়ালকে আলো ঝলমলে করে দিতে পারেন হলুদ, সাথে লাগাতে পারেন কিছু ইনডোর গাছ।
কমলা:
স্বক্রিয়তা এবং সৃষ্টিশীলতা বাড়ায় এই রংটি। এটি একটি পার্শ্ববর্তী রঙ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। মূল রঙ কমলা হলে তা অতিরিক্ত লাগতে পারে।
ডাইনিং রুম বা রান্নাঘরের জন্য কমলা বেছে নিতে পারেন। বাচ্চাদের রুমেও চমৎকার মানিয়ে যাবে রংটি।
সবুজ:
সবুজ মানেই যেন শীতলতা। বড় হলঘর বা বাড়ির প্রবেশমুখে লাগাতে পারেন এই রংটি। সারাদিনের কাজ শেষে যখনই ফিরবেন ঘরে চোখে নেমে আসবে প্রশান্তি।
লাল:
শক্তি এবং ক্ষমতার প্রতীক হল লাল রঙ। কোন জায়গাকে উষ্ণতা দিতে ব্যবহার করতে পারেন এই রংটি। একই সাথে রংটি বাড়ায় অন্তরঙ্গতা।
রং বিশেষজ্ঞ হ্যারিংটনের মতে, “আপনার ডাইনিং এর রং যদি হয় লাল, মানুষ ভাববে আপনি ভাল রান্না করেন।” বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও সত্যি। আপনি যদি চান, অতিথি পেট পুরে খাবে আপনার বাড়িতে তাহলে ডাইনিং রুমের এর দেয়াল করুন লাল রং।
নীল:
শান্তি এবং ফ্রেশ একটা অনুভূতি দেয় নীল রঙ। হ্যারিংটন বলেন, ” লাল রং ব্লাড প্রেশার, হার্ট রেট সহ বিভিন্ন স্পন্দনক্রিয়া বাড়ায়। নীল রং কাজ করে একদম বিপরীত ভাবে, মনে আনে বিশ্রাম।” তাই আপনার শোবার ঘরের রংটি হতে পারে নীল। তবে গাঢ় নীল, কারণ তা ঘুমের জন্য ভাল।
নীল ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে। আপনি যদি ডায়েট করতে চান তাহলে রান্নাঘরে নীল রঙ ব্যবহার করতে পারেন। বাথরুমে শীতল শান্ত অনুভূতি পেতে নীল বেছে নিন।
কালো:
ক্ষমতাকে ঘোষণা করে কালো রঙ। আপনার যে জিনিসটি আপনি সকলের দৃষ্টিগোচর করতে চান সেই জিনিসটিকে দিন কালো ব্যাকগ্রাউন্ড।
ধূসর
মনকে প্রশান্ত করে ধূসর রঙ। বাড়ির কোন একরুমকে যদি অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করতে চান তাহলে সেখানে ব্যবহার করতে পারেন এই রংটি।
বেগুনী:
আভিজাত্য এবং বিলাসিতার রঙ বেগুনী। লিভিং রুম এবং মাস্টার বেডরুমের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ।
বাদামী:
সবুজের মতই বাদামী যেন নিয়ে যায় মনকে প্রকৃতির কাছে। যে রুমটিতে সবাই মিলিয়ে জমিয়ে আড্ডা হবে সেই রুমের দেয়ালে ব্যবহার করু এই রঙ। গবেষণায় দেখা গেছে, বাদামী রঙ মানুষের কথা বলার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
সাদা:
পরিচ্ছন্নতা এবং পবিত্রতার প্রতীক সাদা রঙ। কোন স্পেসকে বড় দেখাতে হলে সাদা রঙের জুড়ি নেই। তাই আপনার কোন ঘর যদি একটু ছোট হয় তার দেয়ালে দিতে পারেন সাদা রঙ। ঘরটিকে আবদ্ধ মনে হবে না তাহলে।
মনে রাখবেন, আপনি যখন আপনার ঘরের জন্য কোন রঙ পছন্দ করছেন তখন যে কোন একটি রঙ বেছে নেওয়ার বদলে বেছে নিন ৩টি রঙ। দেয়াল বা ফ্লোরের জন্য বেছে নিন প্রকৃতির কাছাকাছি কোন রঙ। আসবাবগুলোকে দিন শীতল রঙ, আর ঘর সাজানোর বাকি জিনিসগুলো ব্যবহার করুন উজ্জ্বল কোন একটি রঙের। রঙের বৈচিত্র্য যত মানানসই হবে সে ঘরে শান্তিও তেমনি বজায় থাকবে।
Comments
Post a Comment