মনের উপর ইন্টিরিওর ডিজাইন এর প্রভাব
ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলতে সাধারণত আমরা বুঝি একটি বাড়ি দেখতে কেমন হবে, কতটা ভিন্ন হবে কিংবা কীভাবে চমকে অন্যকে দেওয়া যাবে ইত্যাদি। আর সেজন্য আমরা কতইনা নতুন নতুন নকশা খুঁজে বের করি কিন্তু এটা মূল কাজের একটা ছোট্ট অংশ মাত্র।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার বাড়ির নকশা আপনার মনে প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আপনার ভাল থাকা, মন্দ থাকা। আপনার অবচেতন মনে আবাস্থলের নকশার প্রভাবের উপর রয়েছে মনোবিজ্ঞানীদের নানান গবেষণা। নিজের স্বপ্নের আবাসনকে সাজানোর আগে জেনে নিন এই গবেষণাগুলোর ফলাফল কি বলছে!
আমাদের মনস্তত্ত্বের উপর বাড়ির আকৃতি, জানালার ধরণ, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এসবের প্রভাব কেমন করে পরে আসুন জেনে নিই-
গৃহসজ্জা প্রকাশ করে আপনার ব্যক্তিত্বঃ
দেয়ালে রঙ দেওয়ার পরের কাজটিই হল সেই রঙের সাথে মিলিয়ে আপনার ঘরের সাজ কেমন হবে সেটা।
জায়গাকে পূর্ণ করছে এমন প্রতিটি জিনিসই মানুষের কাছে আপনার পছন্দ সম্পর্কে একটি মেসেজ দেয়।
জিনিসটি যে কোন কিছুই হতে পারে। দেয়ালের একটি ওয়ালম্যাট থেকে শুরু করে ফুলদানির নীচের চাদরটি পর্যন্ত আপনার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।
মানুষ আপনার গৃহ শয্যা মূল্যায়ণ করে মূলত তিনটি দিক বিশ্লেষণ করে এইগুলি হলো:-
১:)প্রতীকী:-
আপনার পছন্দের জিনিসগুলো কি কোনভাবে আবেগের সাথে জড়িত? আপনি কি একটি পারিবারিক ছবিকে দেয়ালে জায়গা দিয়েছেন নাকি কোন প্রিন্ট করা পেইন্টিং বেছে নিয়েছেন ঘর সাজাতে?
২:) বিনিময় মূল্য:-
দামের সাথে জিনিসগুলোর প্রয়োজনীয়তার সামঞ্জস্য আছে তো? অর্থাৎ, আপনার ব্যয় করার ধরণ কেমন? আপনি কি একটা বেডরুম স্যুটের সমান দামে শুধু একটি সোফা ক্রয় করবেন?
৩:)ব্যাবহার যোগ্য জিনিস:-
জিনিসটি কি আপনার কাজের? অর্থাৎ সেটা জরুরী ছিল বলে ব্যাবহার করা নাকি নেহায়েতই সৌখিনতা? ডাইনিং টেবিলটা কি পুরো পরিবারের একসাথে বসার জন্য পারফেক্ট?
৪:)কোন নিদর্শন বা প্রতীক:-
জিনিসগুলোর সাথে কি কোন চিহ্নের সংযোগ আছে? কোন প্রতীক? কোন ব্রান্ডের প্রতীক অথবা কোন জাতির বিশেষ কোন নিদর্শন? নাকি শুধু গৃহসজ্জাই তার কাজ?
এই তথ্য গুলি থেকে আপনি সহজেই অনুমান করতে পারবেন আপনার কোন কাজটি আপনার সম্পর্কে মানুষকে কি তথ্য দিতে পারে।
যেমন-
১:)আপনি যদি সব আসবাব পরিবারের সবার কথা মাথায় রেখে কেনেন তাহলে বোঝা যায় আপনি একজন সৌহার্দ্রপূর্ণ আবেগী মানুষ। পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্ক বেশ ভালো।
২:) আপনার ঘরের কর্ণারটি যদি নানান বন্ধুদের স্মৃময় ছবিতে পরিপূর্ণ থাকে তাহলে বোঝা যায়, আপনি আপনার জীবনে সময়ের মূল্য অর্থ দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে দেন।
৩:) আপনার ব্যয় যদি অযথা দামী জিনিসের ক্ষেত্রে বেশী হয় তাহলে বোঝা যায় আপনি কেমন ধোনী বা আপনার অর্থ বা প্রতিপত্তি এই বিষয়টি আপনি সকলের কাছে জাহির করতে চান।
তাই নিজের ঘর সাজানোর আগে এই বিষয়গুলো ভাবুন না হলে তা আপনার উপরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে:
যেমন:
১:)আপনি হয়ত ভিন্নধর্মী মানুষ। কিন্তু কেনাকাটায় সতর্ক না থাকার কারণে আপনার গৃহসজ্জা আপনার সম্পর্কে মানুষকে ভুল তথ্য দিতে পারে।
২:)আপনার মনের ছবি যদি আপনার ঘরে প্রকাশিত না হয় তা আপনাকেও অস্থির করে দেবে। দেখা যাবে, আপনি কিছুদিন পরপরই আসবাব বদলে দিচ্ছেন। এক দেয়ালের ছবি অন্য দেয়ালে সরিয়ে নিচ্ছেন।
তার চেয়ে বরং কেনাকাটার সময় আপনার ব্যাক্তিত্ব কে চিনতে শিখুন এবং সেই অনুযায়ী জিনিস পত্র কিনুন।
●খালি জায়গার উপযোগিতা:
ডিজাইনাররা ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে একটা কনসেপ্ট ফলো করেন, তারা চেষ্টা করেন ঘরের জায়গা এমনভাবে ব্যবহার করতে যাতে মনে হয় ঘরটি বেশ বড়।
ঘরে যত বেশী ফাকা জায়গা থাকবে তত আপনার মন ভাল লাগবে। অতিরিক্ত আসবাব ঘরের সৌন্দর্য্যই শুধু নষ্ট করে না, আপনার মুডও নষ্ট করে দেয়।
আপনি যদি আপনার ঘরকে আরও প্রশস্ত এবং বড় দেখাতে চান তাহলে ভারি আসবাবের বদলে হালকা নকশার আসবাব ব্যবহার করুন।
পেছনের দেয়ালে লাগান একটি বড় আয়না। চেষ্টা করুন একই ধরণের আসবাব কিনতে, সম্ভব হলে একই রঙের অথবা কম্বিনেশনের। বিভিন্ন কোনায় ব্যবহার করুন আলোকসজ্জা।
●ফেং সুই:
এটি একটি চাইনিজ শিল্প। আপনি যদি আপনার জীবনে অভূত পরিবর্তন আনতে চান তাহলে তা শুরু করতে পারেন আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইন থেকেই। অনেক ডিজাইনার এর মতে-
ফেং সুই এর পদ্ধতিগুলো সৌভাগ্যকে আকর্ষণ করে, সাফল্য, ভালোবাসা এবং ইতিবাচক শক্তিকে জীবনে বয়ে আনে। ফেং সুই তত্ত্ব ঘরের সজ্জায় গুরুত্ব দেয় প্রকৃতিকে। কৃত্রিমতার পরিবর্তে আদিমতাকে সে নিয়ে আসে ঘরের কোণায় কোণায়।
●পরিছন্নতাই মহৎ গুন:-
আপনার বাড়ির প্রবেশপথ পরিচ্ছন্ন রাখুন।
যদি আপনার বাড়ি অপরিস্কার হয় তাহলে আপনি যত সুন্দর বা যত দামি আসবাবপত্র ব্যাবহার করুন তা আপনার মনে আনন্দ সঞ্চার করতে পারবে না।
●বায়ু চলাচল বজায় রাখুন:
দরজার রঙ এবং পথের সজ্জা হোক এমন যা মানুষকে স্বাগত জানায়। ফল, পাথর, গাছ, মাটিকে প্রাধান্য দিন গৃহসজ্জায়। যত বেশী পারা যায় আলো এবং বাতাস প্রবেশের পথ খোলা রাখুন।
এই সব কিছুই আপনার মস্তিষ্কে শান্তি এবং আনন্দের বার্তা দেবে।আপনার অবচেতন মন বাড়িতে প্রবেশ করলেই প্রশান্ত অনুভব করবে। বাড়ির প্রতি একটা আকর্ষণ, মায়ার বন্ধন তৈরি হবে আপনার। শুধু মাথা গোজার ঠাই নয়, বাড়ি হবে এমন জায়গা যেখানে মেলে শরীর এবং মনের সর্বোচ্চ আরাম। শুধু আবাসস্থল নয়, বাড়ি হয়ে উঠবে আপনার পরম বন্ধু।
Comments
Post a Comment