জীবনকে আরও উন্নত করছে মাইক্রোচিপ ইমপ্ল্যান্ট
বর্তমানে এই সমাজে বিজ্ঞানের গরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। বিজ্ঞানের এই ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত সহজ করে তুলেছে।
আজকে আমরা যেই নতুন আবিষ্কারের বিষয়ে কথা বলছি সেটা হলো " মাইক্রোচিপ ইমপ্ল্যান্ট "
পৃথিবীর উন্নত এবং বসবাসের জন্য সেরা দেশগুলোর মধ্যে একটি সুইডেন। দেশটিতে মানুষের একে অপরের উপরে নির্ভরতা এতো বেশি যে, সেখানে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও অন্য কারো সাথে আলোচনা করতে খুব বেশি ভাবতে হয় না।
তবে বেশ কিছুদিন হল এই ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতার হাওয়া এসে লেগেছে সুইডেনে। বিশেষ করে, সম্প্রতি সুইডেনে অনেক নাগরিকই তাদের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য সংরক্ষণের জন্য এবং দৈনন্দিন কাজ আরো সহজে সম্পন্ন করতে ত্বকের নিচে মাইক্রোচিপ ব্যবহার করছেন।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনছেন!
আমি মাইক্রোচিপের কথাই বলছি
আর সেটাও এবার নিজেদের ত্বকের নিচে সার্জারি করে ব্যবহার করছেন সুইডিশরা।
এই একটি মাইক্রোচিপের মাধ্যমেই ঘরের চাবি, ক্রেডিট কার্ড, ট্রেনের টিকিট- এই সবকিছুই বাড়তি হিসেব নিজের সাথে বহন করার প্রয়োজনীয়তা ফুরোবে সুইডেনবাসীর।
শুনতে একটু অদ্ভূত মনে হলেও বাস্তবে এই মাইক্রোচিপ অসম্ভব সাহায্যকারী। সম্প্রতি নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ভয় থেকেই এই ব্যাপারে আরো বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন সুইডিশরা।
ত্বকের নিচে এই মাইক্রোচিপ স্থাপন অবশ্য নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে, সুইডেনে এর আগে ২০১৫ সালেও এমনটা করা হয়েছে।
সেসময় কেবল সুইডেনেই নয়, আরো কিছু দেশে এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। তবে তখন গোপনীয়তার সাথেই কাজটি করা হয়েছিল।
অবশ্য এটি নিয়ে তবুও তখন সুইডিশরা অসম্ভব নেতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেন। প্রযুক্তিতে অনেকটা উন্নতি করলেও ব্যক্তিগত তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারেনি তারা। বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ সুইডিশ নিজেদের ত্বকে মাইক্রোচিপ স্থাপন করেছেন।
সুইডেনবাসীদের এটিকে একটা গোটা হাতব্যাগ বলে মনে হয়েছে। যার ভেতরে তার প্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে। অথচ এতে নেই বাড়্তি কিছু বহন করার ঝামেলা, চুরি বা ছিনতাই হওয়ার কোন সুযোগ।
এই চিপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিটও কাটা সম্ভব
এই মাইক্রোচিপ প্রতিস্থাপন করতে ব্যবহার করা হয়েছে এনএফসি বা নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন প্রযুক্তি।
এখনো পর্যন্ত খুব বেশি কাজ এই মাইক্রোচিপ করতে পারে না। যদিও একজন মানুষের প্রাত্যাহিক জীবনের অনেককিছুই এটি সহজ করে দেয়। তবে খুব দ্রুত এই প্রযুক্তিকে আরো বেশি উন্নত করা হবে বলে মনে করছেন সবাই।
মাইক্রোচিপ ত্বকের নিচে প্রবেশ করানোর জন্য একটি সিরিঞ্জের মতো দেখতে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যেটি কিনা ব্যবহারকারীকে কোনরকম বাড়তি ব্যথাবোধ করায় না।
এছাড়াও, দৈনন্দিন জীবনে কোনরকম ঝামেলার মুখোমুখিও হতে হয় না এর ব্যবহারকারীকে।
তবে এই মাইক্রচিপ ব্যবহারে কিছুটা হলেও বিপদ রয়েছে। এই চিপ একজন মানুষের রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এবং শরীরে সংক্রমণ তৈরি করতে পারে।
তবে তারচাইতেও বড় ব্যাপার হল, চিপের ভেতরে থাকা তথ্যগুলো। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে চিপে কম পরিমাণে তথ্য রয়েছে।
তবে এটা খুব বেশিদিন কমের ভেতরে থাকবে না। ধীরে ধীরে চিপে জমে থাকা তথ্য বাড়বে এবং সেইসাথে বেড়ে যাবে চিপ ব্যবহারের ভয়াবহতা।
বর্তমানে যতটা না বেশি প্রভাবিত করছে এই মাইক্রোচিপ মানুষকে, ভবিষ্যতে সেটা আরো বড় আকারে করবে। আর ঠিক কখন কাউকে এই চিপ বড়রকম সমস্যায় ফেল দেবে সেটা চিহ্নিত করাটাও সেই সময় সম্ভব নাও হতে পারে।
তবে এই মাইক্রোচিপের পক্ষে কথা বলছেন এমন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা হওয়ার নয়।
বিশেষ করে, মানুষের নিজস্ব তথ্যের উপরে নিজের যতটা প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে ততই ভালো। ব্যাপারটিকে অনেকে ‘বায়োহ্যাকিং’এর সাথে তুলনা করছেন।
যার অর্থ, প্রাণীদেহের সাথে প্রযুক্তির মিশ্রণ। অনেকে আবার এই চিপের মাধ্যমে তথ্য হ্যাক হতে পারে এমনটাও ভাবছেন।
এই সবকিছুই এখন কেবল ভাবনা। কেউ এই নতুন প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে, কেউ নেতিবাচকভাবে।
তবে অন্যান্য দেশের চাইতে ১০ মিলিয়ন মানুষের সুইডেন বর্তমানে সহজভাবে মাইক্রোচিপ প্রতিস্থাপনকে গ্রহন করেছে। খুব বেশি দেরী নয় যখন ছোট ছোট ইমপ্ল্যান্ট পার্টিগুলোর মাধ্যমে সুইডেনের অনেকটা অংশ মাইক্রোচিপের আওতায় চলে আসবে।
কম্পিউটার চালু করা, প্রিন্টিং করা- ইত্যাদি কাজেও ব্যবহৃত হবে এই চিপ।
আর এর ভয়াবহতা কতটা হবে?
সেটা দেখতেও অপেক্ষা করতে হবে ভবিষ্যতের।
আর যদি এই লেখাটি আপনার কোনো বন্ধু বা আত্মীয়দের উপকারে লাগে তাহলে নিচের শেয়ার বাটন গুলোতে ক্লিক করে তাদেরকে শেয়ার করুন।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
Comments
Post a Comment